মঠবাড়িয়ায় আমন ধানের চারার তীব্র সংকট, কৃষকরা দিশেহরা

সোহেল, বিশেষ প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চলতি মৌসুমে ভারী বর্ষণে জলদ্ধতায় বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমন ধানের চারার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে জলাবদ্ধাতার জন্য দায়ী করেছেন অপরিকল্পিত বেড়িবাধ স্লুইজগেটকে। বীজ সংকটের কারনে কৃষকরা পাশর্^বর্তী জেলা উপজেলা থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে সংগ্রহ করছেন। অপরদিকে কৃষি অফিসের তেমন কোন সহযোগিতা না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কায় আছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বিএডিসির ব্রি-৫২, ব্রি-৭৬ ব্রি-৭৭ উপকূলের নিচু জমিতে ব্যপক চাহিদা রয়েছে। উপজেলায় বিএডিসির কোন ডিলার না থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীরা অন্য জেলা থেকে সংগ্রহ করার অযুহাত দেখিয়ে এক প্রকার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে। অপর দিকে ভারী বর্ষণে জলদ্ধতায় উপজেলার ১৫০ হেক্টর আমন ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। সর্বত্র আমন চারার সংকট থাকায় কোথাও তারা আমন চারা পাচ্ছেন না। বীজতলা তৈরী করতে ৬০ মেট্রিকটন আমন ধানের বীজের প্রয়োজন।

সরেজমিনে উপজেলা বিভিন্ন হাটে খুচরা বিক্রেতাদের আমন ধানের চারা সংগ্রহ করে বেচতে দেখা গেছে। উপজেলার মিরুখালী বাজারে ধানের চারা বিক্রেতা বাচ্চু তালুকদার (৫০) জানান, কৃষকদের স্বার্থে চারা যোগাড় করে প্রতিদিন লোকসান দিয়ে বিক্রি করেও আনন্দ পাই। ওই বাজারের ধানের চারা ক্রেতা আউয়াল জমাদ্দার (৪০), পবিত্র কুমার (৫৮), প্রশান্ত (৩২) বলেন, ভারী বর্ষণ জলাবদ্ধতায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় বেশী দামে চারা কিনতে হচ্ছে।

মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের চাষি রুস্তুম সরদার (৫৮), বড়মাছুয়া গ্রামের পাভেল আকন (৩৫) জানান, সাম্প্রতি বর্ষার জলাবদ্ধতায় তাদের চরম ক্ষতি হয়েছে। ধান চাষের সময় হলেও কোথাও আমন চারা মিলছেনা বছর চাষের জমি ফাঁকা থাকার সম্ভাবনাই বেশী।

মিরুখালী ইউনিয়ন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাধ স্লুুইজগেটের কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ¯øুইজগেট নিয়ে একশ্রেণীর লোকজন ব্যবসা করে আসছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শওকত হোসেন বীজ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি অতিবর্ষণের ফলে আমনের চারা ক্ষতি সাধন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা চিহ্নিত করে উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রনোদনা আসলে কৃষকদের মাঝে বন্টন করা হবে।